ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র কড়া বার্তা প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড় শেয়ারবাজার গতিহীন দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর মহাসচিব খায়রুল নির্বাচিত ঢাকায় নতুন মার্কিন দূত মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত, সড়ক অবরোধ দিনাজপুরে নদী থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে নির্বাচনি জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস রাজস্ব সংগ্রহে এনবিআরের চ্যালেঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে পলককে ডিম নিক্ষেপ ইনকিলাব মঞ্চের ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ভাইসহ নিহত ৩ শ্যামনগরে আমন ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেই হবে-রেজাউল করীম হলফনামায় ‘অপ্রদর্শিত’ সম্পদের মালিকদের শাসক হিসেবে চান না দুদক চেয়ারম্যান কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না সরকার-প্রেস সচিব ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি-বাণিজ্য উপদেষ্টা

দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

  • আপলোড সময় : ১২-০১-২০২৬ ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০১-২০২৬ ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন
দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার
* ফিলিং স্টেশন-দোকানে ঝুলছে গ্যাস নেই লেখা নোটিশ
* এলপি গ্যাস আমদানিকারকদের সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
* বাড়ছে ইলেক্ট্রিক চুলার ব্যবহার 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। সরকার ঘোষিত দামে বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না। এমনকি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার হাজার টাকা বেশি গুনেও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্না নিয়ে মারাত্মক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে সে দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েও অনেক এলাকায় মিলছে না। তাছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার না থাকায় গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাজারে সংকট, উচ্চমূল্য, এবং অনেক জায়গায় সরবরাহ বন্ধ থাকায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকে বাইরে থেকে খাবার কিনছেন, ইলেক্ট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন, এবং এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে ও খরচও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহিণীরা।
জানা গেছে, শীতের শুরুতেই রাজধানীর অনেক জায়গায় এলপিজি গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে মাটির চুলা বা ইলেকট্রিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। সরকারি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। তবে বাস্তবে তা কিনতে হচ্ছে অন্তত ২ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। এতে গ্রাহকদের দিশেহারা করে তুলেছে। কাওলা নামা পাড়ার দক্ষিন খানের বাসিন্দা ইতি পারভীন। তিনি জানান,গত এক সাপ্তাহ ধরে বাসায় গ্যাস ছিল না। অনেক ঘুরাঘুরি করে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ১২ কেজির একটা গ্যাস সিলিন্ডার কিওেন আনতে সক্ষম হয়েছি। আজকে ঈদের খুশি খুশি লাগছে। একই কথা বলেছেন মিরপুর এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদ আবেদীন।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অনেক ডিলারের দোকান ফাঁকা। কোনো কোনো দোকানে সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকা অন্যদিকে বাড়তি দামেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার আনতে পারছেন না তারা। সরবরাহ সংকটের কারণে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও নিম্নআয়ের মানুষেরা মাটির চুলা ব্যবহার করছেন। তবে ভোক্তারা বলছেন, বাসাবাড়িতে রান্নার একমাত্র ভরসা এলপি গ্যাস। সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে কিনছেন, আবার অনেক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজধানীর আজিমপুর এলাকার চা বিক্রেতা সিজান বলেন, চায়ের দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস আমাদের লাগেই। এই এলাকার কোনো দোকান থেকে সিলিন্ডার কিনতে পারছি না। ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার কামরাঙ্গীরচর থেকে কিনে এনেছি ২ হাজার ৩০০ টাকায়। আরেক দোকানি রুমান বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করে ২ হাজার ৪০০ টাকায় দুটি সিলিন্ডার পাইছি। দাম তো অনেক বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই, গ্যাস তো লাগবেই। এজন্য বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। রাজধানীর বাটা সিগন্যাল এলাকার এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা ব্যবসায়ী রিপন বলেন, আমরা আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন অনেকেই সিলিন্ডার চাচ্ছেন, আমরা দিতে পারছি না। পাইকারি বিক্রেতারা দাম বেশি নিচ্ছেন। কিন্তু গত দুদিন বেশি দামেও পাচ্ছি না। আমরা প্রতি সিলিন্ডারে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ করি। ঘরভাড়া, ভ্যানভাড়া ও লেবার খরচ বাদ দিয়ে তেমন লাভ থাকে না।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বাড়তি দাম রাখছেন। কোথাও কোথাও অস্বাভাবিক দাম রাখা হচ্ছে। ধানমন্ডির কাঁঠালবাগান এলাকার পাইকারি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ বলেন, আমরা সিলিন্ডার ঠিকমতো পাচ্ছি না। চাহিদা মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সিলিন্ডার আনতে নরসিংদী গাড়ি পাঠাতে হয়। গাড়ি গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৭-৮ দিন বসে থাকে। গাড়ি ভাড়ার ডেমারেজ দিতে হয়। আমাদের খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়। কোম্পানি থেকে সরকারি দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নে এই বিক্রেতা বলেন, কোম্পানি আমাদের থেকে সরকার নির্ধারিত দাম রাখছে। কিন্তু মার্কেটে সাপ্লাই কম, গাড়ি বসে থাকে। এজন্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আমরাও কিছুটা বাড়তি দাম রাখছি।
এলপি গ্যাস আমদানিকারকদের সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে এলপিজি আমদানিতে বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারে বোতলজাত করা হয়। ফলে এলপিজি আমদানির পর সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে স্থানীয় আমদানিকারকদের একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এলপিজি সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণের অধীনে আমদানির জন্য যোগ্য একটি শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত হবে। সে অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ব্যবহারের শর্তে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ট্রেড ক্রেডিট গ্রহণের পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধি ও বিচক্ষণ ঋণনীতির আওতায় বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতার ক্রেডিট সুবিধা নেয়ার ব্যবস্থা করতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যেতে পারে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের ইউজান্স পিরিয়ড (বাকিতে মূল্য পরিশোধের সময়) সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজি আমদানিকারকরাও একই সুবিধা ভোগ করবেন। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব অনুমোদিত ডিলারদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ফিলিং স্টেশন-দোকানে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ: দেশের বাজারে চাহিদার অর্ধেকও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মিলছে না। তীব্র সংকটের পাশাপাশি থামছে না দাম নিয়ে নৈরাজ্য। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চাইলেও সময়মতো সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এই সংকট। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের অনেক দোকানেই ঝুলছে-‘এলপি গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ। গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে চলছে লাগামহীন দাম বাড়ানোর প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তাও সব জায়গায় মিলছে না। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। সরকারি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও বাজারে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। অথচ এই বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সিলিন্ডার থাকলেও সব বোতল খালি। তাই বাধ্য হয়েই দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বোর্ড টানাতে হচ্ছে। সংকটের প্রভাব পড়েছে শুধু বাসা-বাড়ির রান্নাবান্নায় নয়, এলপিজি বা অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতেও। কোথাও অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ, আবার কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে গ্যাস নেয়ার জন্য। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না। অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা জানান, দাম বাড়ার পর থেকেই এই সংকট চলছে। কোনো স্টেশনে গেলে লাইন দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় জানিয়ে দেয়া হচ্ছে-গ্যাস নেই, স্টেশন বন্ধ।
ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ। সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। অন্যদিকে যানবাহনে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট, ঋণপত্র খোলার জটিলতায় একাধিক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ এবং আমদানি বাড়াতে আবেদন করেও সময়মতো জ্বালানি বিভাগের অনুমতি না পাওয়া-সব মিলিয়েই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে মোট ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো সাত থেকে আটটি কোম্পানি। বাকি ২০টির বেশি কোম্পানি বিভিন্ন জটিলতায় আমদানি করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে সব কোম্পানি আমদানি করতে পারবে এবং তখন এলপিজিতে উদ্বৃত্ত তৈরি হবে। তবে তীব্র এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের আশা, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
এলপিজি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে খাত সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন, ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর জ্বালানি সরবরাহ নিষেধাজ্ঞা আর দেশীয় পর্যায়ে এলসি খোলার জটিলতা। আমদানি বৃদ্ধির অনুমতি না পাওয়া ও বড় এলপিজি কোম্পানিগুলো ব্যবসা কমিয়ে দেওয়াও সংকট সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বাজারে ৫ কোটি ৫০ লাখের মতো সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারই রিফিল হচ্ছে। বড় এলপিজি কোম্পানিগুলোর আমদানি বন্ধ থাকার কারণে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এলসি খোলা থাকলেও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পণ্য আসতে পারছে না। এ ছাড়া বর্তমানে ইউরোপেও এলপিজির চাহিদা অনেকটা বেড়ে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার জানে যে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে এলপিজির চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের এই সংকট মোকাবিলার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। নইলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো। এলপিজির স্টোরেজ তৈরি করা সহজ, সরকার চাইলে এটি করতে পারত, কারণ তারা আগেই জানত যে সংকট তৈরি হবে। তিনি বলেন, সরকারি পাইপলাইনে গ্যাস না থাকাকে একটি ‘সিগন্যাল’ হিসেবে নেওয়া উচিত, যার মানে হলো ভবিষ্যতে সরকার আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে না। তাই এখনই গৃহস্থালি পর্যায়ের এলপিজি সরবরাহে সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ঘরে এলপিজি পৌঁছে দেওয়াটা নিশ্চিত করতে হবে। পাইপলাইন গ্যাসের সমস্যা কবে সমাধান হবে, তা কেউ স্পষ্টভাবে বলতে পারছে না, কারণ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত একটি নীতি প্রণয়ন করা।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স